বৃহস্পতিবার,১৯শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

সুষ্ঠু ভোট হলে ২ সিটিতেই আ.লীগের ভরাডুবির আশঙ্কা

 

 

দলীয় কোন্দল ও বিরোধ নিরসনের কার্যত কোনও উদ্যোগ না নিয়েই গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট যুদ্ধে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ মে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে দুই সিটির নির্বাচন।

আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা গণসংযোগে নেমেছেন। কিন্তু দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের থেকে তারা তেমন সাড়া পাচ্ছেন না। দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধ প্রকট হয়ে উঠেছে। এর সুযোগ পাবেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থীরা। এমনটাই জানা গেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে।

সূত্রমতে, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের হারিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। দলীয় নেতাদের অসহযোগীতার কারণেই পরাজিত হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী।

খুলনায় নেতাদের সহযোগীতা পাচ্ছেন না আ.লীগের মেয়রপ্রার্থী
খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবারও মনোনয়ন পাওয়ার আগে ২০১৩ সালের নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য দলীয় নেতাদের অসহযোগীতার কথা বলেছেন। মেয়র পদে নির্বাচন করতে অনেকটা অনীহা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছে খালেক।

২০১৩ সালের নির্বাচনে খুলনা সিটিতে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ জন। মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩ ভোট। আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট।

এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটার বেড়েছে ৫২ হাজার ৫২৭ জন। এই নতুন ভোটাররাই জয় পরাজয়ের বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। খুলনা সিটি এলাকার বড় অংশই সদর আসন। এই আসনটি বিএনপি দুর্গ হিসেবে পরিচিত।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ নির্বাচন পর্যন্ত এখানে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থীরা। ২০১৪ সালের বিনাভোটে জয়ী হন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। তালুকদার খালেকের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিরোধ দীর্ঘদিনের।

এছাড়া আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অনেকেই অভিমানে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে রয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে তালুকদার খালেক দলের বর্ধিতসভা ডেকেছিলেন। জানা গেছে, সেই সভায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গাজীপুরে আজমতউল্লাহ খানসহ স্থানীয় নেতারা জাহাঙ্গীর থেকে দূরে
এদিকে, গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন এ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান। মোট ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ ভোটের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। আজমতউল্লাহ খান পেয়েছিলেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। এই সিটিতে মেয়র পদে নতুন মুখ এনেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

জানা গেছে, আজমতউল্লাহ খানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জাহাঙ্গীর থেকে দূরে রয়েছেন। এছাড়া গাজীপুর সদর আসনের এমপি জাহিদ আহসান রাসেল নির্বাচনের ব্যাপারে এখনও নিরব রয়েছেন। দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ নেই দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীদের। গতবারের চিত্রই দেখা যাচ্ছে, নেতারা দায়সারা প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন মন্তব্য শোনা গেল অনেকের মুখেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, খুলনাতে তেমন সমস্যা নেই। তবে বড় সমস্যা গাজীপুরে। সেখানে ভোটার সংখ্যা বেশি। আর ভোটাররা বেশিরভাগই ভাড়াটিয়া। তাদের ভোট দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আনতে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকাই বেশি।

তবে সাধারণ ভোটারদের অনেকেই বলছেন, সুষ্ঠু ভোট বলে বিএনপি প্রার্থীরাই এবারও জয়ী হবেন। ভরাডুবি হবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের।

এদিকে আজ রোববার ছিল দুই সিটি করপোরেশনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

আজকে

  • ৬ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৯শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং
  • ৩রা শাবান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।