শনিবার,২৬শে মে, ২০১৮ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

খালেদা জিয়াকে আটকাতে গিয়ে আ’লীগই আটকে গেছে: ঘুরে যাচ্ছে সুর

 

একথা সবাই বলছেন, বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ায় তাঁর পপুলারিটি আরও বেড়েছে। জনমত বিএনপির দিকেই গেছে। জনগনের মতামত দেখে হতাশ হয়ে পড়ছে সরকার।

সরকারের আশাভঙ্গ সরকার ধেরেই নিয়েছিল, সাজা দিলে বিএনপি হরতাল অবরোধে যাবে, তখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসাবে আবার প্রতিষ্ঠা করা যাবে। কিন্তু রায়ের পরে বিএনপি প্রধান সেদিকে যেতে নিষেধ করায় হতাশ হয়েছে লীগ। বিএনপির কৌশল নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেছে আওয়ামীলীগ।
খালেদা জিয়াকে যেভাবে জেলে নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে সাধারন মানুষ খুব সহজভাবেই বলছে- মামলার রায় আদালতের নয়, বরং শেখ হাসিনাই তাঁকে জেলে পুরেছে। মাত্র ২ কোটি টাকার মামলাকে কোনো ভাবেই দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না, এত অল্প টাকার দুর্নীতি খালেদা জিয়া করতে পারেন। তাছাড়া ২ কোটি টাকা ব্যাংকেই আছে, যা এখন ৬ কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। তাহলে এতিমের টাকা মারলো কিভাবে? তাছাড়া ব্যাপক ভাবে প্রচার পেয়েছে যে, ভুয়া নথি বানিয়ে এই মামলায় রায় দেয়া হয়েছে। সরকার চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে এতিমের টাকা চুরির অপবাদ দিতে, কিন্তু মানুষ মনে করে সরকারই অন্যায় ভাবে এই রায় দিয়েছে। অন্যদিকে, সরকার ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে জেলে নিলেই বিএনপি ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু, সেটা উল্টো হয়েছে- বিএনপি আরও শক্তিশালি হয়েছে। দ্বিধাদ্বন্দ ভুলে একতাবদ্ধ হয়েছে। গত দু’সপ্তাহে খালেদা জিয়া যতগুলি মিটিং করেছেন, যেভাবে দল গুছিয়েছেন, তাতে অা’লীগ এখন মনে করছে, বিএনপির ক্ষতি করতে গিয়ে বরং উপকারই হয়ে গেছে।

সরকারে উল্টোসূর
পাবিলিক সেন্টিমেন্ট এভাবে আ;লীগের বিপরীতে যাওয়ার বিষয়টি অনেকে বুঝতে পেরে উচ্ছাস মিলিয়ে গিয়ে উল্টো সুর ধরেছেন। অতি উৎসাহী নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এখন বলছেন, রায়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নাই, এটা বিচারিক বিষয়। মোহাম্মদ নাসিম বলছেন, আমরা কাউকে বাদ দিয়ে ইলেকশন করতে চাই না। আইনমন্ত্রীর ভাষাও নরম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথমে উৎসাহ দেখালেও এখন বলছেন ভিন্ন কথা- নিজ দলের নেতাকর্মীদের বলবো, এ নিয়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই। মারামারি, লাফালাফি, দাপাদাপির কোন প্রয়োজন নেই।

শিক্ষাবিদদের মন্তব্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী বলেন, জনগণ মনে করে এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ মামলা হয়েছিল। বর্তমান প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তখন ১৫টি মামলা হয়েছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সব ক’টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধেও শত শত মামলা হয়েছিল এবং তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আণ্ডাবাচ্চা দিয়ে এ পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্যই এ মামলা এ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তাদের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। আইউব খানের আমলে রাজনৈতিক মামলায় ৩০৩ ধারায় যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তারা পরে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পিতাকেও আইউব খানের সময় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্যই এ মামলা এ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তাদের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। আইউব খানের আমলে রাজনৈতিক মামলায় ৩০৩ ধারায় যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তারা পরে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পিতাকেও আইউব খানের সময় দোষী সাব্যস্ত কিন্তু তাতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল মনে করেন, এ কারাদণ্ড বিএনপির জন্য নেতিবাচক না হয়ে বরং ইতিবাচক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মনোযোগে খালেদা
গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তিক্ষè দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত খালেদা জিয়ার কারাবরণ শতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা যুক্তরাজ্য ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দী খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই একই অবস্থা। সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।

আওয়ামী লীগের অনেকেই বিরক্ত
রাস্তাঘাটে সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্ট সবই আ’লীগের বিরুদ্ধে গেছে। এমনকি অনেক আওয়ামী লীগার যারা ভদ্র তারা পর্যন্ত বলে এই মামলা ভুয়া এবং উনাকে এভাবে জেলে দেয়া উচিৎ হয় নাই। অনেকেই এখন আওয়ামীলীগ ত্যাগ করতেছে বিভিন্ন জায়গাতে। গতকাল মুগদা থানার যুবলীগ সভাপতি, সাধারণ সেক্রেটারি সহ অনেকেই ভিডিও করে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে দল ত্যাগ করেছে। সে নিজেই বলে আমি এক সন্ত্রাসী দেখি কে আমার কি ছিড়তে পারে!

কূটনীতিক চ্যানেল
জেলে ভয়হীন আত্মবিশ্বাসী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খবর শুনে সরকারী মহল ভেবে পাচ্ছে না – কি থেকে কি হয়ে গেলো। তাছাড়া, বাসা থেকে ব্যাগ গুছিয়ে কাজের মেয়ে সাথে করে খালেদা জিয়া কোর্টে আসায় সরকার এখন মনে করছে কোনো ডিপ্লোমেটিক হাই চ্যানেল রায়ের খবরটি আগেই জানিয়ে দিয়েছে। হতে পারে তারাই বেগম জিয়ার ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকের ধারণা , খালেদা জিয়া জামিন নিয়ে সহসাই জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন ভিন্ন উচ্চতায় – অনেকটা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বের হবার পরে শেখ মুজিবের মত ইমেজ নিয়ে।

আজকে

  • ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১১ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।