রবিবার,২৬শে মে, ২০১৮ ইং, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

ব্লু হোয়েল-এর লিংক পেলে ২৮৭২-তে কল করুন

 

ব্লু হোয়েল কিংবা এর মতো জীবন নিয়ে মৃত্যুর শঙ্কায় থাকে এমন যে কোনো গেইমের তথ্য পেলে ২৮৭২ নম্বরে ফোন করে তা জানাতে বলেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) । মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি এ কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং কমিশনের কারিগরি বিষয়াবলী বিশ্লেষণ করে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বর্তমানে ইন্টারনেটে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ওয়েব লিংক-এড্রেস-গ্রুপ এবং অ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তিমূলক, জীবন হানিকর গেইম পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একদিন আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে ‘ব্লু হোয়েল গেইম’ লিংক বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর উপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

ব্লু হোয়েল কি:

এটি একটি অনলাইন গেইম। ‘ব্লু হোয়েল’ বা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ একটি অনলাইন গেইম, যা অংশগ্রহণকারীকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। প্রথমে সাদা কাগজে তিমি মাছের ছবি এঁকে শুরু হয় খেলা। তারপর খেলোয়াড়কে নিজেরই হাতে পিন বা ধারালো কিছু ফুটিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে সেই তিমির ছবি আঁকতে হয়। এছাড়াও একা ভূতের ছবি দেখতে হয়, আবার ভোর চারটা বিশ মিনিটে ঘুম থেকে উঠতে হয়। অতিরিক্ত মাদকসেবনও রয়েছে এর মধ্যে। গেইমের লেভেল যত এগোয়, ততই ভয়ংকর সব টাস্ক আসতে থাকে।

ছাদের একেবারে কাছে গিয়ে ছবি তুলে পাঠানোসহ আরও ভয়ংকর কিছু। নিশ্চিত হতে টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি গেইমিং পেজে পোস্ট করতে বলা হয়। গেইমের অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীকে এক সময় পাঠানো হয় তার মৃত্যুর তারিখ। ৫০ তম টাস্কের শর্ত হিসেবে আত্মহননের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একবার এ খেলায় অংশগ্রহণ করলে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। মাঝপথে খেলা বাদ দিতে চাইলে খেলোয়াড়কে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। আত্মীয়-স্বজনকে ক্ষতি করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। খেলোয়াড়ের ফোন নম্বর ও ইমেল ঠিকানা শেয়ার করার ফলে ডেভেলপাররা বিভিন্ন ধরনের মানসিক আক্রমণ করে। মোবাইলে বার বার নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইল ব্যবহারকারীকে গেমটি খেলতে বাধ্য করে।

‘ব্লু হোয়েল’ গেমিং অ্যাপটি ডাউনলোড করা হলে কোনোভাবেই ডিলিট করা যায় না।

প্রচলিত ধারণা মতে, নীল তিমিরা মারা যাওয়ার আগে জল ছেড়ে ডাঙায় ওঠে, যেন আত্মহত্যার জন্যই। সেই থেকেই এই গেইমের নাম হয়েছে ‘ব্লু হোয়েল’ বা নীল তিমি৷

কিভাবে এলো এই গেম:

২০১৩ সালে মরণ এই গেইমটি রাশিয়ায় ‘এফ ৫৭’ নামে যাত্রা শুরু করে। ‘ব্লু হোয়েল’ গেইম খেলার কারণে প্রথম আত্মহত্যার অভিযোগ আসে ২০১৫ সালে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক সাবেক মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী এই গেইম বানিয়েছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু কেন এই গেইম বানালেন তিনি?

ও শিক্ষার্থীর দাবি, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজে যাদের কোনো মূল্য নেই । তাদেরকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে সমাজকে পরিষ্কার করা। বুদেইকিনকে পরে রাশিয়ায় আটক করা হয়।

সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বারুদের মতো গেইমটি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বন্ধু-বান্ধবকে লিংক পাঠিয়ে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ব্লু হোয়েলের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ওয়েবসাইটের একসেস বন্ধ করে দিচ্ছে। লন্ডনের স্কুল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করেছে। অবিলম্বে ব্লু হোয়েল বা এ ধরনের বিপজ্জনক গেমসের লিঙ্ক সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকারও।

আজকে

  • ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১১ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।