শুক্রবার,২২শে জুন, ২০১৮ ইং, ৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আরসার

 

নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নতুন এক হামলার দায় স্বীকার করে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। খবর বিবিসি।

রবিবার টুইটারে এ ঘোষণা দেন আরসার নেতা আতা উল্লাহ। তার টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবারের হামলায় জড়িত ছিল আরসা। টুইটে তিনি আরও লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আত্মরক্ষা ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য মিয়ানমারের সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’ একই সঙ্গে বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষের ‘মানবিক সহায়তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের’ জন্য আলোচনা শুরুর আহ্বান জানানো হয়।

ছবিটি ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিও থেকে নেয়া।

মিয়ানমারের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাখাইনে গত শুক্রবার ২০ জন ‘চরমপন্থী বাঙালি সন্ত্রাসী’ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি সাঁজোয়া যানের ওপর হামলা চালায়। ওই যানে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই হামলায় তিন ব্যক্তি আহত হয়।

মিয়ানমারের সরকারের দাবি, আরসা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। তবে আরসা বলছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাঁরা। গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের একটি সেনা চৌকিতে হামলা হয়। এতে কয়েকজনের হতাহতের ঘটনা ঘটে। আরসার চালানো কথিত হামলার কারণে গত বছর রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল।

রোহিঙ্গাদের ওপর ক্র্যাক ডাউন শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। শুরু হয় নির্যাতন। ওই সময় থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নির্মূলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে। মিয়ানমারের সরকার অনেক আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বলে অভিহিত করছে।

রাখাইনে সন্ত্রাস নির্মূলের নামে সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয় হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে।

শুধু তাই নয়, সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন রোহিঙ্গা নারীরা। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

নতুন করে এ হামলার পর মিয়ানমারের সরকার আরও কঠোর অবস্থানে চলে যেতে পারে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে বলে মনে করছেন বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন হেড।

আজকে

  • ৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।