শনিবার,২৬শে মে, ২০১৮ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

খালেদাকে নিয়ে কী কী ঘটবে?মিনা ফারাহ

 

সালাউদ্দিন রিপোর্ট

রাজনীতির হিমালয় থেকে সঙ্কুচিত করতে করতে বিএনপিকে বানিয়েছে- ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলাও। আসলেই খালেদার ক্ষেত্রে ভোট চাই না, কুত্তা সামলাও বলাই যুক্তিযুক্ত। ১০ নম্বর সতর্কসঙ্কেতের খাদে এবং ফাঁদে পড়া বিএনপির অশনিসঙ্কেত বোধহয় সবচেয়ে বেশি আমিই লিখেছি। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন এবং আইনের শাসন বাস্তবে বহুআগেই অকার্যকর।

ডিজিজ টার্মিনাল নাকি নরমাল- প্রসঙ্গটি তুলে বিএনপি ধ্বংসের শেষ ধাপ জানিয়ে দেয়া হলো। আন্দোলনের হিমালয় থেকে নেত্রী এখন সুস্থ-অসুস্থতার আলোচনায় সঙ্কুচিত।

অন্যজন ভোট চেয়ে সরকারি টাকায় সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। এটা নাকি তার অধিকার। অধিকার শুধু আওয়ামী লীগেরই। সত্য কঠিন হলেও সত্যেরই জয়। Vulgarism জাতির বিবেক ও নীতি-নৈতিকতা ধ্বংস করেছে। বাস্তবে গণতন্ত্র নেই, স্বেচ্ছাচারী শাসন। মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে কয়েকটি কথা।১.২০১৮ সালের ২৬ মার্চ অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটালেন হাইকমান্ড।

সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রীকে জেলে ভরে, সদলবলে সে দিন সাভারে! ২১ ফেব্র“য়ারিতেও তাই। ২) ৪৭ বছরে এই প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো স্বৈরশাসকের তালিকায় বাংলাদেশ। ’৭১-এর মৌলিক গণতন্ত্র এখন যেন ‘কমিউনিস্ট গণতন্ত্র’।জিয়া মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম পদকপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার; সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাও। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীও। ২০১৮ সালে একা হাইকমান্ডের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে লজ্জিত নই। লজ্জিত এ কারণে, সে দিন গোটা জাতিই চুপ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে সামান্য আলোচনা। সত্যি হলো,আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাই প্রতিরোধ যুদ্ধ না করে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওপারে অনেকেই কলকাতায় বিলাসী জীবনযাপনে ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি এ দিকে, সেই ৯০লাখ ছাড়া বাকিরা দেশেই। অনেক চিহ্নিত রাজাকার এখন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দেন। অভিযোগ পার্লামেন্টেও নাকিতাদের উপস্থিতি।অন্য দিকে, প্রথম দিন থেকেই সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে জিয়াউর রহমানের গোটা পরিবারকেই ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রেখেছিল পাকিস্তানিরা।

প্রধান নেতা তখন কী কারণে ৯মাস পাকিস্তানে, ৪৭ বছরেও পরিষ্কার নয়। ঢাকায় পুরো পরিবারের সাথে পাকিদের নমনীয়তা রহস্যপূর্ণ। সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, আহমদ ছফা, বদরুদ্দীন উমরসহ অনেকেই বিষয়টির ওপর জোর আলোকপাত করলে বইগুলো হয় নিষিদ্ধ, নয় উধাও।

হুমায়ূনের সর্বশেষ ‘দেয়াল’ বইটি কয়েক দফা কাটাছেঁড়ার আগে তৃতীয় সংস্করণটি আমার হাতে। সেখানে ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং রাওফরমান আলীর একসাথে চা-নাশতা খাওয়ার কথাপড়ে দুই চক্ষু চড়কগাছ। এগুলো অনেকের অবস্থান পরিবর্তনের কারণ। ১৯৭১ সালে নিজে কিশোরী ও রিফিউজিহওয়ায় সত্যতা খুঁজে পেতে কষ্ট হয়নি। বরং নিজেকে বলেছি, পাকিরা খুঁজে খুঁজে শুধু হিন্দু আর মুক্তিযোদ্ধাদের মারল; কিন্তু শহরে এত বড় টার্গেটকে আদর-যতনে রাখা হলো? পরিবারটির প্রতি পাকিদের যে দরদ, কিঞ্চিৎ পেলেও সংখ্যালঘুদের অবস্থাহলোকাস্টের হতভাগ্য রিফিউজিদের মতো হতো কি?২৬ মার্চ থেকে পুরো ৯ মাস জিয়া কোথায় ছিলেন; সবাই জানে।

রণাঙ্গনের সৈন্যদের গড়ৎধষ অটুট রাখতে, নেতৃত্বহীনতার উৎকণ্ঠা দূরকরতে ২৭ মার্চ কালুরঘাটে কীকরেছিলেন, সামাল দিতে আওয়ামী লীগ হিমশিম খেলেও পাবলিকের কষ্ট হয় না। নেতা ছাড়া যুদ্ধ হয় না। অনাদিকালথেকেই যার প্রমাণ। উদাহরণস্বরূপ, ‘দ্বাপর’ যুগে কুরুপাণ্ডবের যুদ্ধে, দোটানা মনের অর্জুনকে যুদ্ধে গড়ঃরাধঃবফ করতে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে নিঃসৃত যুদ্ধের আধ্যাত্মিক নির্দেশনাই, ভগবত গীতা। সুতরাং ৯ মাস রণাঙ্গনে জিয়া ঘুমিয়েছিলেননাকি কালুরঘাটে যাওয়ার পথে ভুলে কলকাতায় উপস্থিত হয়েছিলেন, এই বিতর্ক অতীত।‘

বীর উত্তম’ পদকটি সশস্ত্র সংগ্রামের পুরস্কার। এটি নিজ হাতে দিয়েছিলেন বরং মুজিব। জাদুঘর থেকে পদকটি সরিয়ে প্রমাণ করা হলো, পদকটি যেমন ভুল; যিনি দিয়েছিলেন তিনিও ভুল। বিএনপির জন্মের পর থেকে স্বাধীনতা দিবসসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক দিবসেই সব দল এক কাতারে। ব্যতিক্রম এবারের ২০১৮। যখন একাই জাতীয় দিবস ২১ ফেব্র“য়ারি এবং ২৬ মার্চউদযাপন করা হয়, তখন মুক্তিযুদ্ধের এক রকম অমর্যাদাই ঘটে। তাতেও লজ্জিত নই।

লজ্জিত এ কারণে, সে দিন একজন মুক্তিযোদ্ধাও তাদের সহ মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানের বিরুদ্ধে সাভারে যাওয়া থেকে বিরত থাকেননি। একজন নারী মুক্তিযোদ্ধাওÑ বিধবা, বয়স্ক, পুত্রশোকাকুলনারীকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো অবস্থায় রাখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি। একজন পুরুষও নারীর প্রতি অসম্মানের লজ্জায় মুখে কালো কাপড় দেননি।একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ। ’৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের প্রতিবাদে তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তানের হিন্দুরা সিদ্ধান্ত নিলেন, মূর্তির বদলে ঘটে দুর্গাপূজা হবে। এই খবরে বিচলিত স্থানীয় প্রশাসন আমার পিতাসহ অন্য হিন্দু নেতাদের সাথে বৈঠক করলেও কাজ হলো না। এভাবেই অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ করেছিলেন সংখ্যালঘুরা।দ

আজকে

  • ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১১ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।