শুক্রবার,২২শে জুন, ২০১৮ ইং, ৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

দেশনেত্রীর সঙ্গে করা অমানবিক আচরণে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী

 

‘যে নির্দয়, অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ দেশনেত্রীর সঙ্গে করা হচ্ছে তাতে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এই গভীর ক্ষোভ থেকেই একদিন কড়া জবাব পাবে সরকার প্রধান ও তাঁর সরকার। খুব শীঘ্রই জনতা অন্যায়ের প্রতিবাদে শুণ্যে মুঠি তুলে রাস্তায় বাঁধভাঙ্গা ঢলের সৃষ্টি করবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

বন্ধুরা,
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে সরকার। কারাগারের ভগ্নস্তুপের গুমোট পরিবেশে চিকিৎসাহীন দেশনেত্রী ট্র্যানজিয়েন্ট স্কীমিক এ্যাটাক্ (টিআইএ) এ আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হলেও এখনও তাঁর চিকিৎসার সুরাহা করেনি সরকার। তাঁর জীবন আশঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরী হলেও দীর্ঘসূত্রিতা করে বেগম জিয়াকে কোন বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কীনা তা নিয়ে দেশের সর্বত্র মানুষের মনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। কারণ রাজনৈতিক ময়দানে শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রীকে মাইনাস করতে পারলে রাজনীতির ময়দানে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে কোন অসুবিধা থাকবে না। শেখ হাসিনা বিচারিক প্রক্রিয়াকে কব্জায় নিয়ে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে দুরে সরিয়ে দিতেই দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে কালক্ষেপণ করছে এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের দিয়ে আজেবাজে কথাবার্তা বলাচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনকে যে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে, তিনি সেই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত। অথচ নি¤œ আদালতে জামিনযোগ্য মামলায় কুটকৌশল করে তাঁর জামিন পাওয়ার পথ পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ কাজটি করা হচ্ছে স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে। তাঁর উদ্দেশ্য পরিস্কার, তা হলো রাজনৈতিক ময়দান থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেয়া। জনতার স্মৃতিতে বাসী হওয়ার কোন সুযোগ নেই যে-শেখ হাসিনা যখন বন্দী ছিলেন তখন তিনি বেসরকারী স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল সাহেবও ল্যাব এইডে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো: নাসিমও কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাহলে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের বিরোধী দলীয় সাবেক নেতা, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপোষহীন নেত্রী এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যাঁর অবদান অপরিসীম, তাঁর মতো জননন্দিত একজন নেত্রীকে চিকিৎসার নামে শর্ত আরোপ হচ্ছে তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে সরকার বিপজ্জনক নীল নকশা আঁটছে। চিকিৎসা সেবা না দেয়ার জন্যই সরকারের এসব শর্তারোপ। আর শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশনেত্রীকে যথাযথ চিকিৎসা না দিতে দুরভিসন্ধিমূলক বিলম্ব ঘটিয়ে তাঁর জীবন নিয়ে নিখূঁত চক্রান্ত করা হচ্ছে। আর এই চক্রান্তজাল বোনার ঘটনা জনগণের কাছে অজানা থাকছে না। দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে শেখ হাসিনার এই নিষ্ঠুর তামাশা দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে সরকারবিরোধী ঘৃনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি পরিস্কারভাবে বলতে চাই-পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসকদের চিকিৎসা নেয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। আর কোন শর্তারোপ নয়, বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা নিন। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া কোথাও চিকিৎসা নেবেন না। যে নির্দয়, অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ দেশনেত্রীর সঙ্গে করা হচ্ছে তাতে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এই গভীর ক্ষোভ থেকেই একদিন কড়া জবাব পাবে সরকার প্রধান ও তাঁর সরকার। খুব শীঘ্রই জনতা অন্যায়ের প্রতিবাদে শুণ্যে মুঠি তুলে রাস্তায় বাঁধভাঙ্গা ঢলের সৃষ্টি করবে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আর একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের বাড়ীমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগকে আমলে না নিয়ে গতকাল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন-রাস্তাঘাটে কোন যানযট নেই, মানুষ স্বস্তিতে বাড়ী যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। খানাখন্দে ভরপুর রাস্তাঘাটে বৃষ্টির পানি, কাদা লুটোপুটি খাচ্ছে ঈদে বাড়ী ফেরা মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-উত্তরাঞ্চল, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ সকল সড়ক-মহাসড়কে দীর্ঘ যানযটে পড়ে মানুষকে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র টঙ্গী-জয়দেবপুর পার হতেই লাগছে ০৫ থেকে ১০ ঘন্টা। সেতুমন্ত্রী বছরজুড়ে বাকোয়াস অমৃত বচন শুনিয়ে মানুষের মনকে জয় করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। কথার ফুলঝুরি ছাড়া বছরব্যাপী রাস্তাঘাট নির্মাণে সেতু মন্ত্রীর উদ্যমী প্রচেষ্টা ছিল না। খানাখন্দে ভরা সড়কের কারণে অর্ধেক জনগোষ্ঠী ঈদে বাড়ী যায়নি। বেশীর ভাগ লোক ঝুঁকছে ট্রেনের দিকে, সেখানে দুভোগের সীমা নেই, সিডিউল বিপর্যয় আর যাত্রীদের ভিড়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বাদুড়ঝোলা ঝুলে বাড়ী যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে মানুষ। রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতালকে ধ্বংস করে দিয়ে যারা দৈত্যাকার মেগা প্রজেক্টে ব্যস্ত থাকে তারা মহাদূর্নীতিবাজ। পৃথিবীর দেশে দেশে এই দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি। লুটপাটের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত মেগা প্রজেক্টের আর্থিক কেলেঙ্কারীতে নিমজ্জিত সরকার বিরোধী সমালোচনাকে স্তব্ধ করার জন্যই নাৎসী শাসন কায়েম করে। কাজেই সেতু মন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে ইয়ার্কি ঠাট্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ।
সবাইকে আগাম ঈদ শুভেচ্ছা। আল্লাহ হাফেজ।

আজকে

  • ৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।