বৃহস্পতিবার,১৯শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

 
 

চক্রান্ত বাদ দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিন রুহুল কবির

 

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রোববার, এপ্রিল ১৫, ২০১৮, দুপুর ১২টায়, রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ বলেছেন, সরকারী হুকুমে কারসাজিমূলকভাবে বেগম জিয়ার জামিনকে স্থগিত করা হয়েছে, এসব ঘৃন্য চক্রান্ত বাদ দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। তাঁর চিকিৎসা কিসে ভাল হয় সেটি তাঁকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দিন। বেগম জিয়ার ইচ্চানুযায়ী তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন।
নিচে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এর প্রেসব্রিফিং এর পূর্ণপাঠ দেয়া হলো —
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

বন্ধুরা,

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। তিনি অসুস্থ হলেও এখন পর্যন্ত তাঁকে কোন চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সরকারী মেডিকেল বোর্ড মামুলি প্রহসনের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করে ফিজিওথেরাপির সুপারিশ করেছে। একজন বয়স্ক ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী যিনি দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি তাঁকে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখায় আরও বেশকিছু শারীরিক সমস্য দেখা দিয়েছে। তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি চোখের অপারেশনও হয়েছে। এমনকি সরকারী মেডিকেলের চিকিৎসক বোর্ড বলেছে তাঁর এক্স-রে রিপোর্টগুলোতে দেখা যাচ্ছে ঘাড়ে ও কোমরের হাড়ে সমস্যা আছে। এমতাবস্থায় আধুুনিক চিকিৎসার যুগে এমআরআইসহ উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ও সঠিক রোগ নির্নয় সম্ভব নয়। দেশনেত্রীকে যেদিন পিজি হাসপাতালে আনা হয়েছিল সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ডাকা হলেও তাদেরকে চিকিৎসাসেবার সুযোগ ও পরামর্শ নেয়া হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নি:শেষ করার জন্যই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে এখন চিকিৎসার সুযোগও দেয়া হচ্ছে না। এটা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে বহুমুখী চক্রান্তের অংশ। কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের দেখা করতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য অতি দ্রুত তাঁর নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারী হুকুমে কারসাজিমূলকভাবে বেগম জিয়ার জামিনকে স্থগিত করা হয়েছে, এসব ঘৃন্য চক্রান্ত বাদ দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। তাঁর চিকিৎসা কিসে ভাল হয় সেটি তাঁকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দিন। বেগম জিয়ার ইচ্চানুযায়ী তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

সাংবাদিক বন্ধুরা,

গতকাল প্রধানমন্ত্রী ১লা বৈশাখের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন-অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় না আসতে পারে। এখন জনগণ মনে করে দেশের সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি বর্তমান মহাজোট সরকার। ভোটারবিহীন অগণতান্ত্রিক শক্তি হচ্ছে সবচাইতে নিকৃষ্ট অশুভ শক্তি। মানুষ দিন গুনছে এই অশুভ শক্তির পতনের। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচারীরা কী শুভ শক্তি ? অনাগত দিনের দু:শ্চিনতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ঘনায়মান হতাশা আর বিরোধীদের গুম, খুন, অদৃশ্য করা, হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা, হাঁটুতে গুলি করে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করা, খুলনায় বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে কক্সবাজারে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে দেয়া ইত্যাদি পরিস্থিতিতে দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী প্রাণখুলে হাসতে পর্যন্ত ভুলে গেছে। এই পরিস্থিতি কী কোন শুভ শক্তির লক্ষণ ? জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, জনগণের সমস্ত মৌলিক ও মানবাধিকার কেড়ে নিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ণ চালিয়ে সম্পূর্ণ বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছেন। এটা কী শুভ শক্তির পরিচয় বহন করে ? এখন রাষ্ট্রক্ষমতাকে আরও দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করার স্বপ্নে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে জেলজুলুম ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন-নিপীড়ণ চালিয়েও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কবিগুরুর ‘১৪০০ সাল’ কবিতাটি আওড়িয়েছেন। আমি শুধুুু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এটুক্ইু বলতে চাই-বিরোধীদের প্রতি সরকার প্রধানের ক্ষোভ, ঘৃনা এবং ধ্বংস করার মানসিকতার কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঐ কবিতাটি এখন কীভাবে গৃহীত হচ্ছে সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি। কবিগুরু ‘১৪০০ সাল’ কবিতার এক জায়গায় লিখেছেন—আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন/পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।/আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে/ধ্বণিত হউক ক্ষণতরে। এই কবিতায় কবিগুরু শতবর্ষ পরে অনাগত কালের কবিকে নিজের বসন্ত গান অভিবাদন পাঠিয়েছেন, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে বসন্ত দিন হারিয়ে গেছে, অরাজকতার তীব্র তাপদাহে নির্মম অভিঘাতে। তবে ইংরেজ কবি উইলিয়াম ব্লেক এর একটি কবিতা শেখ হাসিনার এই দু:সময়ের জন্য প্রযোজ্য। কবি বলেছেন, And their fields are bleak and bare/And their ways are filled with thorns/It is eternal summer (winter) there. এখন বাংলাদেশে কবিগুরুর বসন্ত দিন হারিয়ে গেছে, ছয় ঋতুচক্রের আবতর্ন নেই, আছে শুধু মরুতাপে দগ্ধ অবিরাম দু:সহ গ্রীস্ম।

বন্ধুরা,

ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। গত ১২ এপ্রিল ২০১৮ তিনি পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে গেলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ তার গাড়ির গতিরোধ করে এবং গ্রেফতারের ভয় দেখায়। যদিও জনাব আশফাক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অসত্য ও বানোয়াট মামলায় উচ্চ আদালত কর্তৃক জামিনে রয়েছেন। এই মামলা ছাড়া তার নামে কোন মামলা না থাকলেও তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে না দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হলে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য যান। বিষয়টি নিয়ে খন্দকার আবু আশফাক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার ঢাকাকে অবহিত করলেও তারা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। আশফাক ঘটনাটিকে পরিকল্পিত দাবি করে বলেছেন-মূলত: স্থানীয় প্রশাসন পরিকল্পনা করে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্তের ষড়যন্ত্র করছে। খন্দকার আবু আশফাক মামলায় জামিনে থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতারের হুমকি প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্তে ষড়যন্ত্রের ঘটনায় বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এধরণের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

আল্লাহ হাফেজ।

আজকে

  • ৬ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৯শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং
  • ৩রা শাবান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

Express News

 
 
 
প্রধান সম্পাদকঃ এম এ জাহান। চেয়ারম্যানঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
উপদেষ্টাঃ আঃ বাছিদ আছিদ। পরিচালনায়ঃ আবুবকর ছিদ্দিক।
পৃষ্ঠপোষকঃ আঃ জলিল ভূইয়া।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ ইউছুপ মনির ,মোঃ হারুনুর রশিদ,রাসেল আহাম্মেদ,এ এস হিরু,মোঃ শুকুর আলী,এস আর সাইফুল।